Academy
Ans :

বিজয় দিবস

সূচনা: বাঙালির জাতীয় জীবনে একটি উজ্জ্বল দিন বিজয় দিবস। লাখো শহিদের আত্মত্যাগ, স্বজন হারানোর বেদনা ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ভিতর দিয়ে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়। এই দিনে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বীর বাঙালির কাছে পরাজয় স্বীকার করে। তাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। তাই বিজয় দিবস আমাদের আত্মমর্যাদা, বীরত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।'

তাৎপর্য: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। কিন্তু বিজয় দিবসের গুরুত্ব কমেনি এতটুকু। এই দিনটির মাধ্যমেই আমরা নতুন প্রজন্মকে এবং বিশ্বকে বারবার মনে করিয়ে দিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, শহিদদের কথা। মনে করিয়ে দিই বাংলাদেশ নামে একটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা, যা প্রত্যেক বাঙালি তার হৃদয়ে ধারণ করে আছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি: বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পটভূমিতে রয়েছে দুই দশকের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। সে ইতিহাসের প্রথম মাইলফলক ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উন্মেষ ঘটেছিল বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার। এই চেতনা ক্রমে বিকশিত হয়ে স্বাধিকার আন্দোলনে পরিণত হয়। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ভিতর দিয়ে ১৯৭১-এর অসহযোগ আন্দোলন চরম শক্তি লাভ করে। বাঙালি জাতি স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পর সমগ্র জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিরোধ সংগ্রামে। ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের পর বিজয় ছিনিয়ে আনে মুক্তিযোদ্ধারা। পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়াদী উদ্যানে এ ঐতিহাসিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল। দিনটি পরবর্তীকালে জাতীয় ইতিহাসে বিজয় দিবস হিসেবে মর্যাদা পায়।

বিজয় দিবস উদযাপন: স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের অসংখ্য বীর শহিদ। তাঁদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ দিবসে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে খুব ভোরে দিবসটির সূচনা ঘোষিত হয়। বিজয় দিবসের দিন সারা দেশে লাল-সবুজের সাজ দেখা যায়। বাড়ির ছাদে, দোকানে, রাস্তার পাশে, গাড়ির সামনে, স্কুল-কলেজে, এমনকি রিকশার হ্যান্ডেলেও শোভা পায় আমাদের লাল-সবুজ পতাকা। দেশজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। রাজধানী ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠানের। স্বাধীনতার আবেগে উদ্বেলিত নারী-পুরুষ উৎসবের সাজে সেজে সেখানে জড়ো হয়। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীরা নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এদিন সকালবেলা ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এ কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ এ কুচকাওয়াজ উপভোগ করে। বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় বিজয় মেলার। দেশের প্রতিটি জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে এ দিনটি পালিত হয়।

বিজয় দিবসের চেতনা: বাঙালির বিজয়ের পথ লাখো শহিদের রক্তে রাঙা। বিজয় দিবস তাই আমাদের মনে সঞ্চার করে গভীর দেশপ্রেম। পূর্বপুরুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের গর্বিত করে। দৃপ্তপদে সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন করে অঙ্গীকারাবদ্ধ হই আমরা।

উপসংহার: বিজয় দিবস শুধুই আমাদের বিজয়ের দিন নয়, এটি আমাদের চেতনা জাগরণেরও দিন। তাই এই দিনে প্রতিটি বাঙালি নতুন করে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় দেশকে গড়তে। সবার প্রত্যাশা, বিশ্বসভায় আমরাও যেন সবার সামনের সারিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, যেন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে পারি, অশিক্ষা ও দারিদ্র্য থেকে দেশকে মুক্ত করে একুশ শতকের অগ্রযাত্রায় শামিল হতে পারি। তাহলেই আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতার বিজয় যথার্থ অর্থবহ হয়ে উঠবে।

8 months ago

পাঠ্যবই বহির্ভূত কতিপয় রচনার নমুনা

✍️ বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – সপ্তম শ্রেণি | NCTB অনুমোদিত ২০২৫

বাংলা ব্যাকরণ শেখা কি কঠিন মনে হয়?
এসো, SATT Academy–তে শিখি ব্যাকরণ ও ভাষা নির্মাণ–কে সহজ ও আনন্দময় উপায়ে!
এখানে তুমি পাবে NCTB অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সাজানো প্রতিটি অধ্যায়ের সহজ ব্যাখ্যা, প্রশ্ন–উত্তর, লাইভ টেস্ট, ভিডিও সহ শিক্ষা, এবং PDF ডাউনলোড সুবিধা – সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে।


✅ এখানে যা থাকছে:

  • প্রতিটি অধ্যায়ের সহজ ভাষায় সংজ্ঞা, উদাহরণ ও ব্যাখ্যা
  • বর্ণ, শব্দ, বাক্য, পদ, কারক, বিভক্তি, ক্রিয়া, সন্ধি, সমাস ইত্যাদি বিষয়ের পরিষ্কার ধারণা
  • সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন–উত্তর
  • লাইভ টেস্ট ও কুইজ – নিজেকে যাচাই করার সুযোগ
  • ভিডিও লেকচার ও অডিও পাঠ – ব্যাকরণে দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে
  • কমিউনিটি ফিচার – শিক্ষার্থীরা নিজের মতো ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন যোগ করতে পারবে

📥 NCTB PDF ডাউনলোড লিংক (২০২৫):

🔗 বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – সপ্তম শ্রেণি PDF ডাউনলোড
(সরকারি সাইট থেকে ডাউনলোড বা অনলাইনে পড়তে পারবেন)


👨‍🏫 এই কনটেন্ট কার জন্য উপকারী?

  • শিক্ষার্থীদের জন্য: ঘরে বসেই সহজভাবে ব্যাকরণ শেখার সুযোগ
  • শিক্ষকদের জন্য: ক্লাসে শেখানোর জন্য সাজানো উপকরণ
  • অভিভাবকদের জন্য: সন্তানকে গাইড করার উপযোগী রিসোর্স
  • প্রাইভেট টিউটরদের জন্য: টপিক ভিত্তিক সাজানো কনটেন্ট প্রস্তুত

⚙️ কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  1. “বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – সপ্তম শ্রেণি” সিলেক্ট করুন
  2. অধ্যায় নির্বাচন করে ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন–উত্তর পড়ুন
  3. প্রয়োজন হলে বুকমার্ক করুন বা PDF ডাউনলোড করুন
  4. লাইভ কুইজে অংশগ্রহণ করে প্রস্তুতি যাচাই করুন
  5. আপনার মতামত বা ব্যাখ্যাও কমেন্টে শেয়ার করুন

✨ কেন SATT Academy?

  • ✅ বাংলা ব্যাকরণ শেখা এখন সহজ
  • ✅ ১০০% সিলেবাস কাভারেজ – NCTB ২০২৫ অনুসারে
  • ✅ ইন্টার‍্যাক্টিভ ফিচার: ভিডিও, কুইজ, নোটস
  • ✅ কমিউনিটি-সম্পাদিত কনটেন্ট
  • ✅ ফ্রি + প্রিমিয়াম সুবিধা, মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন

🔍 সার্চ-সহায়ক কীওয়ার্ড:

  • বাংলা ব্যাকরণ সপ্তম শ্রেণি PDF
  • Bangla Grammar and Nirmiti Class 6
  • বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি প্রশ্ন উত্তর
  • NCTB Class 6 Grammar 2025
  • SATT Academy Bangla Grammar Class 6

🚀 আজই শুরু হোক ব্যাকরণ শেখার যাত্রা

SATT Academy–র সাথে ব্যাকরণ ও নির্মিতি শেখা হবে মজাদার, সহজ এবং পরীক্ষার জন্য একদম উপযোগী।
শুরু করুন বাক্য গঠন থেকে ভাষা নির্মাণ–এর রোমাঞ্চকর পথচলা আজ থেকেই।

🎓 SATT Academy – ভাষা শেখার স্মার্ট সঙ্গী।

Related Question

View More

1

স্বদেশপ্রেম

(প্রবন্ধ রচনা)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

স্বদেশপ্রেম

সূচনা: স্বদেশের সঙ্গে জন্ম থেকেই মানুষের নাড়ির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই একজন মানুষ স্বদেশকে, দেশের মানুষকে এত ভালোবাসে। এ ভালোবাসাই হলো স্বদেশপ্রেম। স্বদেশের উন্নতির জন্য কাজ করা এবং প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার নামও স্বদেশপ্রেম। যে দেশে আমরা জন্ম নিই সে দেশের প্রকৃতি, মানুষ ও সংস্কৃতিকে ভালোবেসেই গড়ে ওঠে স্বদেশপ্রেম।

স্বদেশপ্রেমের চেতনা: যে মাটিতে আমাদের জন্ম তাই আমাদের প্রিয় স্বদেশ। স্বদেশের আলো-বাতাসে আমরা লালিতপালিত-বর্ধিত হই। দেশের মানুষের চেতনার সঙ্গে আমাদের চেতনার মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়। দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির আলোয় গড়ে ওঠে আমাদের মানস-চেতনা। এভাবে স্বদেশের প্রতি গভীর মমতা, ভক্তি ও শ্রদ্ধায় আপ্লুত হয় হৃদয়-মন। এভাবেই আমাদের অন্তরে অনুরণিত হয় স্বদেশপ্রেমের আবেগ। সে আবেগে আমরা গেয়ে উঠি, 'চিরদিন তোমার আকাশ তোমার বাতাস আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।' স্বদেশপ্রেমের মূলে রয়েছে বৃহত্তর ও সামগ্রিক এক জাতীয় চেতনা। একে আমরা বলি জাতীয়তাবোধ। স্বদেশপ্রেমে যখন আমরা উদ্বুদ্ধ হই তখন আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ তুচ্ছ হয়ে যায়। সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় অগ্রগতি ও দেশের কল্যাণ হয়ে ওঠে আমাদের চিন্তা ও কর্মের প্রধান বিষয়।

স্বদেশপ্রেমের পরীক্ষা: স্বদেশপ্রেমের প্রকৃত পরীক্ষা হয় দেশ ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে। বিশেষ করে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থরক্ষার সময়। সেসময় জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত প্রতিটি দেশপ্রেমিক দেশের স্বার্থে জীবনদানকে নিতান্ত তুচ্ছ মনে করে। স্বদেশপ্রেমের পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়েছে বাঙালি। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতার লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন তিতুমীর, বিনয়, বাদল, দীনেশ, প্রীতিলতা। ফাঁসির মঞ্চে জীবন উৎসর্গ করেছেন ক্ষুদিরাম, সূর্য সেন। জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্‌বুদ্ধ করতে গিয়ে ব্রিটিশের দেওয়া 'নাইট' উপাধি বিসর্জন দিয়েছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কারাবরণ করেছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার-শফিউর। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন অনেক বীর যোদ্ধা। শহিদ হয়েছেন অনেক বুদ্ধিজীবী ও হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা। তাঁরা সবাই এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগে আমরা আজ স্বাধীন। তাঁদের দেশপ্রেমের শক্তিতেই আমরা ছিনিয়ে এনেছি বিজয়।

স্বদেশপ্রেমের বিভিন্ন রূপ: দেশপ্রেমের মহান রূপ দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া। মুক্তিপাগল বাঙালি পালটা প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে (বৈদ্যনাথতলা) তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল নবগঠিত অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। সেই সরকারের নেতৃত্বে চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধ। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও সর্বস্তরের নারী-পুরুষ দেশপ্রেমের মহান ইতিহাস সৃষ্টি করে। অর্জিত হয় স্বাধীন স্বদেশ-ভূমি বাংলাদেশ। দেশের জন্য মঙ্গলজনক নানা কাজেও মানুষ স্বদেশপ্রেমের পরিচয় দেয়। নিরক্ষরতা দূরীকরণের কাজ যেমন দেশব্রতী কাজ, তেমনি দারিদ্র্য দূর করাও দেশব্রতী কাজ। দেশের মানুষের দুঃখ দূর করার কাজ যেমন দেশপ্রেমের কাজ, তেমনি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যেকোনো আবিষ্কার কিংবা অবদানও দেশপ্রেমিকের কাজ। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রোকেয়া, জগদীশচন্দ্র বসু, জয়নুল আবেদিন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, সুফিয়া কামাল প্রমুখ মনীষীর অবদানের মধ্যেও রয়েছে দেশপ্রেমের পরিচয়।

অন্ধ দেশপ্রেমের বিপদ: অনেক সময় উগ্র দেশপ্রেম তথা সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ মানুষকে অন্ধ সংকীর্ণতায় আবদ্ধ ও আচ্ছন্ন করে ফেলে। এভাবে প্রতিটি জাতি অন্ধ জাত্যাভিমানে আচ্ছন্ন হলে পরিণামে তা জাতিতে জাতিতে সংঘাত ডেকে আনে। এ জাত্যাভিমান পৃথিবীতে মহাযুদ্ধ ডেকে এনেছে। তাই অন্ধ জাতীয়তাবোধকে কখনো প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, সত্যিকারের স্বদেশপ্রেম ব্যাপক মানবপ্রেমেরই অনুষঙ্গী। স্বদেশপ্রেম যখন জাতিতে জাতিতে মৈত্রী ও সৌভ্রাতৃত্ব রচনা করে, তখনই তা হয় সার্থক।

উপসংহার: একুশ শতকে পদার্পণ করেছে মানবজাতি। ছোটো হয়ে এসেছে পৃথিবী। শুরু হয়েছে দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে সহযোগিতার নতুন পর্ব। এই নতুন পরিস্থিতিতে অন্ধ স্বদেশপ্রেম যেন আমাদের আচ্ছন্ন না করে। দেশপ্রেমের মধ্য দিয়েই আমাদের বিশ্বের মানুষকে ভালোবাসতে হবে। দেশপ্রেমের উত্তরণ ঘটাতে হবে বিশ্বপ্রেমে। এ চেতনা থেকে নিজের দেশের কল্যাণে ব্রতী হয়েই বিশ্বের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।

2

আমার জীবনের লক্ষ্য

(প্রবন্ধ রচনা)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

আমার জীবনের লক্ষ্য

সূচনা: প্রত্যেক মানুষের জীবনের একটি লক্ষ্য থাকে। কেউ ভাস্তার হতে চায়, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার। ছোটোবেলায় পাড়ার আইসক্রিমওয়ালাকে দেখে আমার আইসক্রিমওয়ালা হতে ইচ্ছা করত। ভাবতাম, সারা দিন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরব আর সব আইসক্রিম একাই খেয়ে ফেলব। প্রকৌশলী বাবার বদলির চাকরির কারণে আমি অনেক জায়গায় ঘুরেছি, তাই প্রকৌশলী হওয়ার সাধও কম ছিল না।

জীবনের লক্ষ্য: তবে আমার এমন সব ইচ্ছাকে ছাপিয়ে সত্যিকার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছেন আমার দাদা। তিনি আমাকে শুধু নিজের কথা না ভেবে সবার কথা, সমাজের সকল মানুষের কথা ভাবতে শিখিয়েছেন। উদ্‌বুদ্ধ করেছেন দেশব্রতী একটা পেশাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিতে। তাই ঠিক করেছি, ভবিষ্যৎ জীবনে আমি একজন কৃষিবিদ ও কৃষি সংগঠক হব।

লক্ষ্য নির্ধারণের কারণ: ফরিদপুরের মধুখালীতে আমার দাদাবাড়ি। সেখানে আমার দাদা গড়ে তুলেছেন একটি বহুমুখী কৃষি খামার। তিনি আমাকে সেই খামার ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন; শিখিয়েছেন কীভাবে নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে একজন মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে। তাঁর মতে, আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর। এ দেশের উন্নতি তাই নির্ভর করছে কৃষির উপর। অথচ আমাদের চিন্তাভাবনা শুধু শহরমুখী। আমরা মনে করি, শহরের উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে। অথচ কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। দাদা দুঃখ করে আরও বলেছেন, দেশের সাধারণ কৃষকরা উন্নত ও যান্ত্রিক কৃষিপদ্ধতির চাষাবাদ জানে না। কীভাবে বহুমুখী খামার প্রকল্প গড়ে তুলতে হয়, উন্নত বীজ ও কৃষি উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে উৎপাদন বাড়াতে হয়- সেসব বিষয়ে তাদের জ্ঞান খুব কম। ফলে তাদের ফসলের উৎপাদনশীলতাও কম। মজুতদার, মধ্যস্বত্বভোগী ও অসৎ ব্যবসায়ীরা এসব কৃষকের নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে তাদের ভীষণভাবে ঠকায়। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা সীমাহীন মুনাফা করে। দাদা বলেছেন, অনেক কৃষকের ছেলেমেয়ে শহরে বড়ো বড়ো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিন্তু তারা যখন নিজেদের গ্রামে ফিরে যায় তখন তারা তাদের অর্জিত বিদ্যাকে নিজেদের গ্রামের উন্নয়নে ব্যবহার করে না, তারা কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত আয়-উন্নতি নিয়েই ব্যস্ত থাকে। দাদার এই কথাগুলো সত্যিই আমাকে খুব ভাবায়। দাদার বহুমুখী খামার প্রকল্প দেখে আমি শিখেছি একটু চেষ্টা করলেই আমাদের গ্রামগুলোর উন্নতি করা যায়, পরিবর্তন করা যায় গ্রামের গরিব মানুষের অবস্থ্য।

লক্ষ্য পূরণে পদক্ষেপ: দাদা আমাকে বলেছেন, পড়ালেখা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সবাই হতে পারে। তবে অর্জিত বিদ্যা ও জ্ঞানকে ব্যবহার করে নিজের চেষ্টায় কিছু করা, সমাজের পরিবর্তন করা অনেক কঠিন কাজ। দাদার অনুপ্রেরণায় আমি সেই কঠিন কাজটিকেই ভবিষ্যতের করণীয় হিসেবে গ্রহণ করেছি।

আমি ঠিক করেছি ভবিষ্যতে আমি একজন কৃষিবিদ ও কৃষি সংগঠক হব। গ্রামে গিয়ে আমি একটি বহুমুখী যৌথ খামার প্রকল্প গড়ে তুলব। সেখানে মাঠে ফসলের চায় হবে, পুকুরে-জলাশয়ে মাছের চাষ হবে। একইসঙ্গে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালনের কাজ চলবে। সবকিছুই হবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। আমি গ্রামের অন্য কৃষকদের এসব পদ্ধতি শেখাব। তাদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। সেইসঙ্গে আমি কৃষি সংগঠন গড়ে তুলতে সচেষ্ট হব। যেখানে কৃষকরা সবাই একত্র হয়ে তাদের ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের কাজে অংশ নেবে। মধ্যস্বত্বভোগী ও অসৎ ব্যবসায়ীরা যাতে কৃষকদের ঠকাতে না পারে, গ্রামের নারীরা যাতে প্রশিক্ষণ পায়, গ্রামের ছেলেমেয়েরা যেন স্কুলে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য আমি উদ্যোগ নেব। চেষ্টা করব যাতে তারা পড়ালেখার পাশাপাশি কৃষিকাজ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ কৃষক হয়ে উঠতে পারে।

উপসংহার: আমি কেবল নিজেকে নিয়ে ভাবব না- আমি আমার গ্রামের জন্য, আমার দেশের জন্য কিছু করতে চাই। আমি চাই, কৃষির উন্নয়ন ও বিস্তার ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নকে সবার সামনে তুলে ধরতে। যত দিন পর্যন্ত আমাদের গ্রামের কৃষকরা আধুনিক কৃষিপদ্ধতি এবং কৃষক সংগঠন গড়ে তুলে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে না পারবে, তত দিন পর্যন্ত কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এ কাজে আমাদের সবার এগিয়ে যাওয়া উচিত। এজন্যই আমি ভবিষ্যতে একজন কৃষিবিদ ও কৃষি সংগঠক হয়ে আমাদের কৃষির উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই।

3

সময়ের মূল্য

(প্রবন্ধ রচনা)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

সময়ের মূল্য

সূচনা: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে চলেছে সময়। কিন্তু মানুষের জীবনে সময় সীমার বাঁধনে বাঁধা। নির্ধারিত জীবনকালের বেশি একটি মুহূর্তও সে ব্যবহার করতে পারে না। সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগানোর উপরই নির্ভর করে মানুষের সফলতা। জীবনে সফল হতে হলে লক্ষ রাখতে হয় যেন সময়ের অপচয় না হয়, যেন সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করার, মাধ্যমেই কেবল জীবনে সফলতা আনা সম্ভব হয়।

সময়ের সদ্‌ব্যবহার: আমাদের জীবনের সময়কাল অত্যন্ত ক্ষুদ্র। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে সময় খুবই মূল্যবান। মূল্যবান এই জন্য যে সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। আর একবার সময় চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। ইংরেজিতে বলা হয়েছে, 'Time and Tide wait for none'-এর বাংলা অর্থ হলো সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।

এজন্য কখনো অলস হয়ে বসে থাকা উচিত নয়। সবসময় সময়কে কাজে লাগানো উচিত। অল্প সময়ে যে কাজ সম্পন্ন হয়, তার জন্য অযথা বেশি সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এতে মূল্যবান সময়ের অপচয় হয়। এ কারণে সময়কে ভালোভাবে এবং সফলতার সজো কাজে লাগানো দরকার। যখনকার কাজ তখনই সম্পাদন করা দরকার। প্রতিদিনের কাজের জন্য নির্ধারিত কর্মসূচি তৈরি করে কাজ করলে সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের প্রতিদিনের পড়ালেখার জন্যও চাই ক্লাসে ও বাসায় পরিকল্পিত রুটিন। তাহলে লেখাপড়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা কাজে, খেলাধুলায় ও সুস্থ বিনোদনে আমরা সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি। আমাদের প্রত্যেকের উচিত সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

ছাত্রজীবন ও সময়নিষ্ঠা: ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের প্রস্তুতিকাল। সময়ানুবর্তিতার অভ্যাস গড়ে তোলার এ হলো সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এসময় পড়ালেখা, বিনোদন ও বিশ্রামের জন্য সময়-পরিকল্পনার ছক অনুসরণ করা দরকার। মনে রাখা দরকার শ্রমবিমুখ, সময়-অসচেতন ও আলস্যপ্রিয় ছাত্র যেমন লেখাপড়ায় পিছিয়ে যায়, তেমনি জীবনেও ব্যর্থতার অভিশাপ ডেকে আনে। ছাত্রজীবনে সময়নিষ্ঠা অভ্যাস করলে ভবিষ্যৎ জীবনে তা কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে।

আধুনিককালে সময়ের সদ্‌ব্যবহার: আধুনিককালে আমাদের জীবন হয়ে পড়েছে জটিল ও বহুমুখী। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনেক কিছুর সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হয়। রাস্তাঘাটে যানজটে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। অপ্রয়োজনীয় বিনোদনেও প্রচুর সময় যায়। এসব মনে রেখে মূল করণীয় অনুযায়ী সময়ের সদ্‌ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া উচিত।

সময়ের অপচয়ের কুফল: আমাদের জীবন গঠনের সময় নির্ধারিত। তাই জীবনের প্রস্তুতির সময় আমরা যদি আলস্য-অবহেলায় সময় নষ্ট করি, তবে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। নিজেকে তৈরি করার সময় একবার পিছিয়ে গেলে পুনরায় এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সময়ের কাজ সময়ে না করলে কাজের বোঝা বাড়ে। পরে সময়ের অভাবে মূল্যবান কাজও যথাসময় শেষ করা যায় না। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা আসে। এজন্য কথায় বলে, 'সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।' তাই পরে করব বলে কোনো কাজ অসম্পন্ন রাখতে নেই।

উপসংহার: সময় নদীর মতো বয়ে যায়। তা কারো জন্য অপেক্ষা করে না। ধনসম্পদ নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে পুনরায় তা অর্জনের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যে সময় চলে যায় তাকে আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। ছেলেবেলা থেকেই আমাদের সময়ের প্রতি সচেতন হতে হবে। একুশ শতকের পৃথিবী হাজারো কাজের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে বিস্ময়কর দ্রুতগতিতে। সুপরিকল্পিত সময়নিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। সময়ের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত না হলে ছিটকে পড়তে হবে অনেক পেছনে। তাই প্রত্যেকের জীবনের জন্য সময়ানুবর্তিতা অনস্বীকার্য।

4

মা-বাবার প্রতি কর্তব্য

(প্রবন্ধ রচনা)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

মা-বাবার প্রতি কর্তব্য

সূচনা: পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে আমাদের সবচেয়ে আপনজন আমাদের মা-বাবা। মা-বাবার সঙ্গেই আমাদের রক্তের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরাই আমাদের সর্বোচ্চ শুভাকাঙ্ক্ষী। তাঁরা আমাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তাঁরা আমাদের লালনপালন করেন। সুখে-দুঃখে তাঁদের কাছেই আমাদের পরম নির্ভরতা। তাই আমরা তাঁদের ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। তাঁদের কাছে আমাদের ঋণ অপরিশোধ্য। পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, পিতামাতার হাতে সন্তানের স্বার্থদ্বার রচিত হয়।

জীবনে মা-বাবার স্থান: আমাদের জীবনে মা-বাবা স্থান সবার উপরে। মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। তাঁর গর্ভেই গড়ে ওঠে সন্তানের দেহ। জন্মের পর সন্তান থাকে একান্ত অসহায়। তখন মায়ের কোলই সন্তানের পরম আশ্রয়। জন্মের পর মাতৃদুগ্ধ পান করেই সন্তান পরমায়ু লাভ করে। মা পরম আদরে সন্তানকে লালন করেন। তিনি নিজে না খেয়ে তাকে খাওয়ান। বাবার ভূমিকাও সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা সন্তানের আহারসামগ্রী ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জিনিসপত্র জোগান, কখনো কখনো মা-বাবা দুজনই এসব জোগান। সন্তান চোখের আড়ালে গেলে তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। সন্তানের নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁরা থাকেন সদা সচেষ্ট। সন্তানকে মানুষ করার জন্য মা-বাবার চেষ্টা ও ত্যাগের সীমা থাকে না। অসুখে-বিসুখে তাঁরা সন্তানের নিরলস সেবা করেন। তাই আমাদের জীবনে পিতামাতার আসন অনেক মর্যাদার, অপরিসীম শ্রদ্ধার।

সন্তানের প্রতি মা-বাবার অনুভূতি: সন্তানের সুখই মা-বাবার সুখ, সন্তানের দুঃখই মা-বাবার দুঃখ। সন্তানের গৌরবে মা-বাবা হন সবচেয়ে সুখী, সবচেয়ে আনন্দিত। অন্যদিকে, সন্তানের দুষ্কর্মে ও অপযশে সবচেয়ে মর্মাহত হন মা-বাবাই। তাই সন্তানের জীবনে মা-বাবার মতো সুহৃদ ও হিতৈষী আর নেই। আজকাল সন্তান যখন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সুন্দরভাবে 'নিজের জীবন গঠন করে তখন মা-বাবার সুখের সীমা থাকে না। আবার সন্তান যখন বিপদগ্রস্ত হয়, তখন মা-বাবার চোখে ঘুম আসে না। সর্বশক্তিমানের কাছে হাত তুলে তাঁরা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। এমনকি সন্তান স্বাবলম্বী হয়ে নিজ পরিবার গঠন করলেও মা-বাবা সন্তানের চিন্তায় সবসময় ব্যাকুল থাকেন। সন্তানের প্রতি মা-বাবার অনুভূতি এতখানিই গভীর ও গাঢ়।

মা-বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্য: মা-বাবার প্রতি আমাদের কর্তব্য অনেক। মা-বাবার চেয়ে শুভাকাঙ্ক্ষী এ জগতে আর কেউ নেই। আমাদের প্রথম কর্তব্য মা-বাবার অনুগত হওয়া। তাঁদের আদেশ-উপদেশ মেনে চলা। মা-বাবা অনেক সময় আমাদের শাসন করেন। সেটা করেন আমাদের কল্যাণের কথা ভেবে। তাই মা-বাবার শাসনে ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত নয়। মা-বাবার প্রতি আমাদের আচরণ হবে মধুর। তাঁরা দুঃখ বা কষ্ট পান এমন কোনো কাজ করা, এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়। মা-বাবার সেবা করাও আমাদের অন্যতম কর্তব্য। তাঁরা অসুস্থ হলে তাঁদের সেবা-যত্ন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বার্ধক্যে তাঁরা যখন দুর্বল ও হীনশক্তি হয়ে পড়েন, তখন হাসিমুখে তাঁদের সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য।

সন্তান যদি সমাজে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা অর্জন করে তবে মা-বাবার বুক আনন্দে ভরে ওঠে। সন্তান চরিত্রবান ও জ্ঞানীগুণী হলে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়। তাঁরা সুখী হন। সেজন্যে সবার উচিত শিক্ষায়, কর্মে ও আচরণে সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠা। যেসব কাজ করলে মা-বাবার দুঃখ পান সেগুলো পরিহার করা সন্তানের কর্তব্য।

উপসংহার: প্রত্যেক মা-বাবাই সন্তানের কল্যাণ চান, মঙ্গল চান। এ সত্যটি অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না। সংসারে এমন অনেকে আছে, যাদের মা-বাবা নেই, তারা মা-বাবার স্নেহ-সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হয়, কষ্ট পায়। আমরা তাদের চেয়ে অনেক সুখী। মা-বাবার সন্তুষ্টি বিধান করার উপরই আমাদের কল্যাণ নির্ভর করে। মা-বাবাকে কোনোভাবেই দুঃখ দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের উপযুক্ত সম্মান দেখাতে হবে। তাঁদের সুখী করতে পারলে আমরাও সুখী হব। বিধাতাও আমাদের প্রতি সদয় হবেন।

ছাত্রজীবনের দায়িত্ব কর্তব্য

সূচনা: মানুষের জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা অর্জনের সময়টিই হলো ছাত্রজীবন। এসময়েই রচিত হয় মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুন্দর জীবন গঠনের শিক্ষা এসময়েই অর্জন করতে হয়। এক্ষেত্রে সামান্য অবহেলা সারা জীবনকেই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ছাত্রজীবনে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে প্রয়োজন সতর্কতা, নিষ্ঠা ও সমুজ্জ্বল জীবনাদর্শ।

ছাত্রজীবন: বৃহত্তর অর্থে মানুষের সমস্ত জীবনই ছাত্রজীবন। তবে সীমিত অর্থে ছাত্রজীবন বলতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনকে বোঝায়। মানুষ ছেলেবেলায় প্রথমে মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনের কাছে অনেক কিছু শেখে। এরপর শিক্ষার আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এখানেই মানুষের প্রকৃত ছাত্রজীবন শুরু হয়।

লেখাপড়া: ছাত্রজীবনের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো লেখাপড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা। ছাত্রজীবনে অর্জিত জ্ঞানের উপরই নির্ভর করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রকৃতি। এজন্য চাই সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত লেখাপড়া। নির্ধারিত পাঠ্যবইগুলো নিবিষ্ট মনে আগ্রহের সঙ্গে পাঠ করা প্রথম কাজ। পাঠ বোঝা এবং বলে বা লিখে তা প্রকাশ করতে পারাই লেখাপড়ার প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু কেবল মুখস্থ করে এ লক্ষ্য অর্জন করা যায় না। ভালো ভালো লেখকের বিভিন্ন বই পড়ে মনকে প্রসারিত করতে হয়। আলোচনা ও বিতর্কে অংশ নিয়ে চিন্তাশক্তির প্রসার ঘটাতে হয়। বিশেষ করে বয়স ও শ্রেণি-উপযোগী বিভিন্ন বই এবং চারপাশের দৈনন্দিন জীবন থেকেও জীবনের পাঠ নেওয়া দরকার।

স্বাস্থ্যরক্ষা: দেহ-মন সুস্থ রাখার জন্য স্বাস্থ্য পরিচর্যা ছাত্রজীবনের একটি প্রধান কর্তব্য। দেহ ও মন সুস্থ না থাকলে লেখাপড়ার কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাই স্বাস্থ্যরক্ষায় সচেষ্ট হওয়া দরকার। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পরিমিত আহার, নিয়মিত ব্যায়াম ও সময়মতো খেলাধুলা করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা: ছাত্রজীবনে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি দরকার শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার অনুশীলন। সুশৃঙ্খল জীবন গড়ার এ এক অপরিহার্য শর্ত। এজন্য শিক্ষক ও মাতাপিতার নির্দেশনা অনুযায়ী দৈনন্দিন কাজ, লেখাপড়া, খেলাধুলা ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী করতে হবে। ঘরে মা-বাবা এবং স্কুলে শিক্ষক হলেন ছাত্রদের সবচেয়ে বড়ো শুভাকাঙ্ক্ষী। তাই তাঁদের কথা মেনে চলা ও শ্রদ্ধা করা উচিত। যারা বয়সে বড়ো তাদেরও সম্মান করতে হবে।

সহপাঠীদের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক: ছাত্রজীবনে সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বের। পড়ালেখা, খেলাধুলা, ভাব বিনিময়সহ সব কাজ মিলেমিশে করলে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাতে আনন্দ ও সুখ পাওয়া যায়।

চরিত্র গঠন: ছাত্রজীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেকে মহৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সাধনা করতে হয়। তাই বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি ছাত্রজীবনে চরিত্র গঠনের দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ছাত্রজীবনের মূল আদর্শ হওয়া উচিত সততা। সেইসঙ্গে চাই সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অনুশীলন। বিনয়ী, সেবাপরায়ণ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার কাজ ছাত্রজীবনের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।

উপসংহার: ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। এগুলো মেনে চলার মাধ্যমেই ছাত্ররা নিজেদের ভবিষ্যৎ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার শিক্ষা নেওয়া উচিত। কেবল পরীক্ষা পাশ ও বেশি নম্বর পাওয়া একমাত্র লক্ষ্য হলে প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।

6

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(প্রবন্ধ রচনা)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলা সাহিত্য জগতেই উল্লেখযোগ্য নন, তিনি বিশ্বজুড়েই তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য বিখ্যাত। এজন্যই তাঁর অভিধা 'বিশ্বকবি'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মলত কবি হলেও সাহিত্যের প্রায় সকল শাখাতেই রেখে গেছেন সৃজনশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে তিনি রেখেছেন বিশেষ ভূমিকা। জীবন ও প্রকৃতির।
রূপ-রস-গন্ধ খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে তাঁর নানামুখী সাহিত্যকর্মে।

জন্ম ও বংশপরিচয়: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতার নাম সারদা দেবী। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের চতুর্দশতম সন্তান। তৎকালীন সময়ে ঠাকুর পরিবার ছিল সমাজে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের নাম।

শিক্ষাজীবন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাজীবন শুরু হয় গৃহশিক্ষকের হাত ধরে। ধরাবাঁধা শিক্ষাব্যবস্থা তাঁর পছন্দ ছিল না। আট বছর বয়সে তাঁকে কলকাতার একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়। কিন্তু স্কুলের পড়ালেখা তাঁর একেবারেই পছন্দ না হওয়াতে তিনি আবারও গৃহশিক্ষকের কাছে শিক্ষা অর্জন চালিয়ে যেতে থাকেন। সতেরো বছর বয়সে তিনি তাঁর ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে বিলেত গমন করেন। সেখানে তিনি ব্রিটেন পাবলিক স্কুল ও লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা করেন। কিন্তু কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তিনি পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি।

সাহিত্যজগতে প্রবেশ: রবীন্দ্রনাথের পরিবার ছিল শিক্ষা ও সাহিত্যে বেশ এগিয়ে। তাই ছোটোবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যজগতে বিচরণের জন্য অনুকূল পরিবেশ পেয়েছেন। খুব অল্পবয়স থেকেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। এরপর তিনি শুধু কবিতায় নয়, বিচরণ করেন প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, গান, নাটক প্রভৃতি ক্ষেত্রেও। বড়ো ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় পনেরো বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'। স্বনামে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের প্রথম কবিতা হলো 'হিন্দুমেলার উপহার'। তাঁর প্রথম গীতিনাট্য হলো 'বাল্মীকি প্রতিভা'।

বাংলা সাহিত্যে অবদান: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় বিচরণ করে বাংলা সাহিত্যকে এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- 'মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, গীতাঞ্জলি ইত্যাদি। তিনি বেশকিছু নাটক রচনা করেন।

বিসর্জন, ডাকঘর, রক্তকরবী ইত্যাদি হলো রবীন্দ্রনাথ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক। রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে প্রকৃত ছোটোগল্পের পথচলা শুরু। তাঁর রচিত চোখের বালি, গোরা, নৌকাডুবি, চার অধ্যায় প্রভৃতি বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তিনি অনেক গান রচনা করেছেন। এছাড়া স্বদেশ, সমাজ, শিক্ষা, মানুষের মন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লিখে কুড়িয়েছেন অনেক প্রশংসা।

পুরস্কার ও সম্মাননা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings'-এর 'জন্য প্রথম এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এ বছরই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক 'ডক্টর অব ল' উপাধিতে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

শিক্ষাবিস্তারে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা: শিক্ষাবিস্তারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ ভূমিকা রাখেন। নিজের বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম দিয়ে বাংলা সাহিত্যজগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন বহুলাংশে। ১৯২১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'। ১৯২২ সালে 'শান্তিনিকেতন' প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া শিক্ষাবিস্তারে আরও অনেক কাজ করেছেন তাঁর কর্মময় জীবনে।

দেশপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন বিশেষ সাহিত্যিকই ছিলেন না, ছিলেন উঁচুমানের দেশপ্রেমিকও। তাঁর বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে লক্ষ করা যায় দেশাত্মবোধের উজ্জ্বল উপস্থিতি। পাঞ্জাবের মানুষের উপর ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচারের প্রতিবাদস্বরূপ 'নাইট' উপাধি বর্জন তাঁর দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমাদের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' গানটিও তাঁরই রচিত।

মৃত্যু: ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ) ৮০ বছর বয়সে এই মহান সাহিত্যিক পরলোকগমন করেন।

উপসংহার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলা সাহিত্যজগতেই বিখ্যাত নন, তিনি বিশ্বজুড়ে তাঁর সাহিত্যকর্ম ছড়িয়ে দিয়ে হয়েছেন বিশ্বকবি। সমগ্র পৃথিবীর সাহিত্য ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা রয়েছে স্বর্ণাক্ষরে। তিনি বাংলা সাহিত্যকে, বাঙালিকে এনে দিয়েছেন এক অনন্য সম্মান। বাংলা সাহিত্যের এ উজ্জ্বল নক্ষত্র তাঁর সাহিত্যকর্মের দ্বারা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...